অবৈধ টাকার বৈধতাকরণ: রঙ্গমঞ্চে কারা?

অসাধু ইনকাম ট্যাক্স অফিসারকে আয়কর বা ঘুষ দিয়ে যেমন অবৈধভাবে উপার্জিত টাকাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ করা যায়, ঠিক তেমনিভাবে অবৈধ টাকার একটা অংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অনুষ্ঠানে দান-খয়রাত, যাকাতের মাধ্যমে ব্যয় করলে টাকাতো সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে (!) বৈধ হয়-ই, দানবীর খেতাবটাও জুটে যায়।

অসাধু ইনকাম ট্যাক্স অফিসারকে আয়কর বা ঘুষ দিয়ে যেমন অবৈধভাবে উপার্জিত টাকাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈধ করা যায়, ঠিক তেমনিভাবে অবৈধ টাকার একটা অংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অনুষ্ঠানে দান-খয়রাত, যাকাতের মাধ্যমে ব্যয় করলে টাকাতো সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে (!) বৈধ হয়-ই, দানবীর খেতাবটাও জুটে যায়।
মোদ্দাকথা, অসাধু ইনকাম ট্যাক্স অফিসার আর অসাধু ধর্মগুরুদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। অথচ দুটো শ্রেণির দায়িত্বই হলো রাষ্ট্রীয় ও মানবিক কল্যাণের নিমিত্তে জনগণের কাছ থেকে কেবলমাত্র বৈধ উপায়ে উপার্জিত টাকার একটা নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে বুঝিয়ে দেয়া। আর অবৈধ টাকার মালিকদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘৃণা করা এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

 লাখ লাখ ধর্মগুরু থাকতেও আজ সুনীতি প্রতিষ্ঠার বালাই নেই। রাষ্ট্র থেকে পরিবার, সর্বত্রই আজ দুর্নীতির জোয়ার বইছে। সাধারণ মানুষরা যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, তারাইতো দুর্নীতিগ্রস্থ, অর্থলোভে প্রভাবিত। এই সমাজের মানুষ পরিবর্তন হবে কী করে!

 বর্তমানে আমরা যারা মুসলিম দাবি করি, আমরা মসজিদ-মাদ্রাসায় যাই দুটো উদ্দেশ্যে - এক পরকালের জান্নাত নিশ্চিত করতে আর দুই, নিজ ও নিজের পরিবারের শান্তি, আয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। ইসলামকে আমরা একান্ত নিজের স্বার্থোদ্ধারে ব্যবহার করছি। সমাজ ও সমাজের মানুষ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিক, পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষ নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা করার সময় কই? আল্লাহ কি স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষদের জান্নাতে দেবেন? আল্লাহকে বোকা বানানো এতোই সোজা!
Promotion

সব ধরণের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিউজ পেতে ক্লিক করুন

BD Job Vacancy